নার্সিং ভর্তি যোগ্যতা।দেখে নিন নার্সিং ভর্তির যোগ্যতা সহ বেতন ও বোনাস সুবিধা

এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার পর লাখো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন থাকে মানুষের সেবা করার এই মহান পেশায় যুক্ত হওয়ার। তবে, এই স্বপ্ন পূরণের পথে প্রথম ও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হলো সঠিক নার্সিং ভর্তি যোগ্যতা সম্পর্কে পরিপূর্ণ ধারণা রাখা।

​অনেকেই না জানার কারণে সঠিক সময়ে আবেদন করতে পারেন না অথবা ভুল কোর্সে আবেদন করে বসেন। বাংলাদেশ নার্সিং ও মিডওয়াইফারি কাউন্সিল (BNMC) প্রতি বছর নার্সিং ভর্তি পরীক্ষার জন্য সুনির্দিষ্ট নীতিমালা প্রকাশ করে। একজন শিক্ষার্থী তার শিক্ষাগত ব্যাকগ্রাউন্ড, এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার জিপিএ (GPA) এবং পাসের সালের ওপর ভিত্তি করে নির্ধারণ করতে পারবেন যে তিনি কোন কোর্সটির জন্য উপযুক্ত। বিএসসি, ডিপ্লোমা নাকি মিডওয়াইফারি—প্রতিটি কোর্সের জন্য আলাদা আলাদা যোগ্যতা নির্ধারণ করা থাকে। তাই চূড়ান্ত প্রস্তুতির আগে আপনার যোগ্যতা যাচাই করে নেওয়াটা বুদ্ধিমানের কাজ। এই আর্টিকেলে আমরা নার্সিং ভর্তির এ টু জেড আলোচনা করবো, যাতে কোনো তথ্য আপনার অজানা না থাকে



নার্সিং ভর্তি পরীক্ষার যোগ্যতা এবং সাধারণ নিয়মাবলি

যেকোনো নির্দিষ্ট কোর্সে আবেদনের আগে কিছু সাধারণ শর্ত পূরণ করতে হয়, যা সকল নার্সিং আবেদনকারীর জন্য প্রযোজ্য। নার্সিং ভর্তি পরীক্ষার যোগ্যতা হিসেবে বাংলাদেশ নার্সিং ও মিডওয়াইফারি কাউন্সিল কিছু বেসিক বা প্রাথমিক মানদণ্ড নির্ধারণ করে দিয়েছে, যেগুলো পূরণ না করলে কোনো শিক্ষার্থীই ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবেন না।

​প্রথমত, আবেদনকারীকে অবশ্যই বাংলাদেশের স্থায়ী নাগরিক হতে হবে। দ্বিতীয়ত, শারীরিক সুস্থতা নার্সিং পেশার একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ, তাই আবেদনকারীকে সুস্বাস্থ্যের অধিকারী হতে হবে এবং কোনো দীর্ঘমেয়াদি বা সংক্রামক ব্যাধিতে আক্রান্ত হওয়া যাবে না।

​শিক্ষাগত যোগ্যতার ক্ষেত্রে পাসের সালের একটি কড়াকড়ি নিয়ম থাকে। সাধারণত ভর্তি পরীক্ষার বছর বা তার আগের বছর এইচএসসি (HSC) পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরাই কেবল আবেদন করতে পারেন। এর বাইরে এসএসসি (SSC) এবং এইচএসসি পাসের সালের মধ্যে সর্বোচ্চ দুই বছরের পার্থক্য গ্রহণযোগ্য হয়। উদাহরণস্বরূপ, কেউ যদি ২০২৫ সালে এইচএসসি পাস করেন, তবে তার এসএসসি পাসের সাল হতে হবে ২০২৩ বা ২০২৪। এছাড়া নার্সিং পেশায় প্রবেশের জন্য আবেদনকারীকে অবিবাহিত হতে হবে, এটি অনেক কোর্সের জন্যই একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হিসেবে বিবেচিত হয়। এই সাধারণ নিয়মগুলো পূরণ করলেই কেবল একজন শিক্ষার্থী পরবর্তী ধাপে নির্দিষ্ট কোর্সের জন্য আবেদন করতে পারবেন।

বিএসসি নার্সিং ভর্তি যোগ্যতা

নার্সিং সেক্টরে সবচেয়ে উচ্চতর এবং চাহিদাপূর্ণ কোর্সটি হলো 'বিএসসি ইন নার্সিং' (BSc in Nursing)। এটি একটি ৪ বছর মেয়াদি স্নাতক বা অনার্স সমমানের কোর্স। এই কোর্সটি সম্পন্ন করার পর শিক্ষার্থীরা সরাসরি দ্বিতীয় শ্রেণীর গেজেটেড কর্মকর্তা হিসেবে সরকারি চাকরিতে যোগদানের সুযোগ পান (সিনিয়র স্টাফ নার্স)। ক্যারিয়ারের এই উজ্জ্বল সম্ভাবনার কারণে বিএসসি নার্সিং ভর্তি যোগ্যতা অন্যান্য কোর্সের তুলনায় বেশ কঠিন এবং প্রতিযোগিতাপূর্ণ।

​এই কোর্সে আবেদনের জন্য শিক্ষার্থীদের নিচের শর্তাবলি অবশ্যই পূরণ করতে হবে:

  • বিভাগ: শিক্ষার্থীকে এসএসসি এবং এইচএসসি উভয় পরীক্ষায় আবশ্যিকভাবে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে উত্তীর্ণ হতে হবে। বিজ্ঞান ছাড়া অন্য কোনো বিভাগের শিক্ষার্থীরা বিএসসি নার্সিংয়ে আবেদন করতে পারবেন না।
  • মোট জিপিএ (GPA): এসএসসি (SSC) বা সমমান এবং এইচএসসি (HSC) বা সমমান পরীক্ষায় মিলিয়ে আবেদনকারীর মোট জিপিএ ন্যূনতম ৭.০০ থাকতে হবে।
  • ন্যূনতম জিপিএ: মোট জিপিএ ৭.০০ থাকলেও, কোনো একটি পরীক্ষায় (এসএসসি বা এইচএসসি) আলাদাভাবে জিপিএ ৩.০০ এর নিচে থাকলে তা গ্রহণযোগ্য হবে না। অর্থাৎ, উভয় পরীক্ষায় কমপক্ষে ৩.০০ পেতেই হবে।
  • জীববিজ্ঞানের শর্ত: যেহেতু এটি একটি চিকিৎসা বিজ্ঞান সম্পর্কিত পড়াশোনা, তাই এইচএসসি পরীক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগের অন্যতম মূল বিষয় জীববিজ্ঞানে (Biology) ন্যূনতম জিপিএ ৩.০০ (অক্ষর গ্রেড 'B') থাকা সম্পূর্ণ বাধ্যতামূলক।


ডিপ্লোমা ইন নার্সিং ভর্তি যোগ্যতা ও কোর্স ডিটেইলস


যারা বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী নন, কিন্তু নার্সিং পেশায় যুক্ত হয়ে মানুষের সেবা করতে চান এবং সম্মানজনক একটি ক্যারিয়ার গড়তে চান, তাদের জন্য সেরা বিকল্প হলো 'ডিপ্লোমা ইন নার্সিং সায়েন্স অ্যান্ড মিডওয়াইফারি' কোর্স। এটি একটি ৩ বছর মেয়াদি ডিপ্লোমা কোর্স। বিজ্ঞান, মানবিক কিংবা ব্যবসায় শিক্ষা—যেকোনো বিভাগ থেকে পাস করা শিক্ষার্থীরা এই কোর্সে আবেদন করতে পারেন। সবার জন্য উন্মুক্ত হওয়ার কারণে এই কোর্সে প্রতিযোগী সংখ্যাও অনেক বেশি থাকে।

ডিপ্লোমা নার্সিং ভর্তি যোগ্যতা বিএসসি কোর্সের তুলনায় কিছুটা শিথিল করা হয়েছে, যাতে সব বিভাগের শিক্ষার্থীরা সমান সুযোগ পান। নিচে ডিপ্লোমা ইন নার্সিং ভর্তি যোগ্যতা এর বিস্তারিত শর্তগুলো তুলে ধরা হলো:

  • বিভাগ ও জেন্ডার: বিজ্ঞান, মানবিক ও বাণিজ্যসহ যেকোনো বিভাগ থেকে পাস করা নারী ও পুরুষ উভয় শিক্ষার্থীরাই এই কোর্সে আবেদন করতে পারবেন। তবে উল্লেখ্য যে, সরকারি প্রতিষ্ঠানে ছেলেদের জন্য সাধারণত ১০% এবং বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে ২০% আসন সংরক্ষিত থাকে।
  • মোট জিপিএ: এসএসসি এবং এইচএসসি বা সমমানের পরীক্ষায় মিলিয়ে আবেদনকারীর মোট জিপিএ ন্যূনতম ৬.০০ হতে হবে।
  • ন্যূনতম জিপিএ: কোনো একটি পরীক্ষায় জিপিএ ২.৫০ এর নিচে পেলে তিনি আবেদনের অযোগ্য বলে বিবেচিত হবেন। অর্থাৎ এসএসসি এবং এইচএসসি উভয় পরীক্ষাতেই আলাদাভাবে অন্তত জিপিএ ২.৫০ থাকতে হবে।

​ডিপ্লোমা কোর্স সম্পন্নকারী শিক্ষার্থীরাও সরকারি হাসপাতালে স্টাফ নার্স হিসেবে নিয়োগ পান এবং পরবর্তীতে পোস্ট-বেসিক বিএসসি করে নিজেদের শিক্ষাগত যোগ্যতা স্নাতক পর্যায়ে উন্নীত করার সুযোগ পান।

নার্সিং ও মিডওয়াইফারি ভর্তি যোগ্যতা

বাংলাদেশসহ বিশ্বজুড়ে মাতৃমৃত্যু ও শিশুমৃত্যুর হার কমিয়ে আনার ক্ষেত্রে মিডওয়াইফ বা ধাত্রীদের ভূমিকা অনস্বীকার্য। নিরাপদ মাতৃত্ব নিশ্চিত করতে এবং প্রসূতি মায়ের সঠিক পরিচর্যার জন্য 'ডিপ্লোমা ইন মিডওয়াইফারি' কোর্সটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি একটি ৩ বছর মেয়াদি ডিপ্লোমা কোর্স, যা সম্পন্ন করার পর সরাসরি সরকারি হাসপাতালে মিডওয়াইফ হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার সুবর্ণ সুযোগ থাকে।

নার্সিং ও মিডওয়াইফারি ভর্তি যোগ্যতা মূলত ডিপ্লোমা ইন নার্সিং সায়েন্স কোর্সের যোগ্যতার মতোই। তবে এই কোর্সের সবচেয়ে বড় এবং প্রধান শর্ত হলো—এখানে কেবল নারী শিক্ষার্থীরাই আবেদন করতে পারবেন। কোনো পুরুষ শিক্ষার্থী মিডওয়াইফারি কোর্সের জন্য আবেদন করতে পারবেন না।

​শিক্ষাগত যোগ্যতার ক্ষেত্রে যেকোনো বিভাগ (বিজ্ঞান, মানবিক বা ব্যবসায় শিক্ষা) থেকে উত্তীর্ণ ছাত্রীরা এতে অংশ নিতে পারবেন। শর্ত অনুযায়ী, এসএসসি (SSC) এবং এইচএসসি (HSC) বা সমমান পরীক্ষায় মিলিয়ে মোট জিপিএ ন্যূনতম ৬.০০ হতে হবে। পাশাপাশি, কোনো একটি বোর্ড পরীক্ষায় জিপিএ ২.৫০ এর নিচে থাকলে সেই শিক্ষার্থী আবেদনের অযোগ্য বলে বিবেচিত হবেন। গ্রামাঞ্চলে এবং উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলোতে মিডওয়াইফদের ব্যাপক চাহিদা থাকায়, এই কোর্সটি নারীদের জন্য একটি অত্যন্ত সম্মানজনক ও নিশ্চিত ক্যারিয়ারের পথ তৈরি করে দেয়।

সরকারি নার্সিং ভর্তি যোগ্যতা ২০২৬

নার্সিং পড়ার ক্ষেত্রে প্রায় সব শিক্ষার্থীর প্রথম পছন্দ থাকে সরকারি নার্সিং কলেজগুলো। সরকারি প্রতিষ্ঠানে পড়াশোনার খরচ যেমন নামমাত্র, তেমনি কোর্স শেষে ইন্টার্নশিপ ভাতা এবং সরকারি চাকরিতে অগ্রাধিকার পাওয়ার সুযোগ থাকে। যারা আগামী বছর ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিতে চান, তাদের জন্য সরকারি নার্সিং ভর্তি যোগ্যতা সম্পর্কে আগে থেকেই পরিষ্কার ধারণা রাখা অত্যন্ত জরুরি।

​প্রতি বছর ভর্তি পরীক্ষার নীতিমালায় পাসের সালের ওপর ভিত্তি করে একটি নির্দিষ্ট নিয়ম বেঁধে দেওয়া হয়। ২০২৬ সালের নার্সিং ভর্তি পরীক্ষার ক্ষেত্রে সাধারণত সেই সকল শিক্ষার্থীরাই আবেদনের সুযোগ পাবেন, যারা ২০২৪ বা ২০২৫ সালে এইচএসসি (HSC) এবং ২০২২ বা ২০২৩ সালে এসএসসি (SSC) পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন। এর পূর্বের সালে পাস করা শিক্ষার্থীরা সাধারণত আবেদন করতে পারেন না।

​এছাড়া, সরকারি নার্সিং ভর্তি যোগ্যতা হিসেবে আরেকটি বড় শর্ত হলো ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়া। বাংলাদেশ নার্সিং ও মিডওয়াইফারি কাউন্সিল (BNMC) ১০০ নম্বরের একটি এমসিকিউ (MCQ) ভর্তি পরীক্ষা গ্রহণ করে। এই পরীক্ষায় ন্যূনতম ৪০ নম্বর পেলে তবেই একজন শিক্ষার্থীকে 'উত্তীর্ণ' বা 'পাস' হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তবে মনে রাখতে হবে, কেবল পাস করলেই সরকারি কলেজে চান্স পাওয়া যায় না। সরকারি কলেজে আসন সংখ্যা সীমিত হওয়ায় (বিএসসি, ডিপ্লোমা ও মিডওয়াইফারি মিলিয়ে), মেধাতালিকার একেবারে শীর্ষের দিকে থাকা শিক্ষার্থীরাই সরকারি নার্সিং কলেজগুলোতে ভর্তির সুযোগ পেয়ে থাকেন। তাই জিপিএ শর্ত পূরণের পাশাপাশি ভর্তি পরীক্ষায় সর্বোচ্চ নম্বর তোলার প্রস্তুতি নিতে হয়।



বেসরকারি নার্সিং ভর্তি যোগ্যতা

সরকারি নার্সিং কলেজে আসন সংখ্যা নির্দিষ্ট থাকায় তীব্র প্রতিযোগিতার কারণে অনেকেই সেখানে ভর্তির সুযোগ পান না। তবে এর মানে এই নয় যে আপনার নার্সিং পড়ার স্বপ্ন সেখানেই শেষ। বাংলাদেশ নার্সিং ও মিডওয়াইফারি কাউন্সিল অনুমোদিত অসংখ্য মানসম্মত বেসরকারি নার্সিং কলেজ ও ইনস্টিটিউট রয়েছে, যা শিক্ষার্থীদের ক্যারিয়ার গড়ার চমৎকার বিকল্প সুযোগ দেয়।

​অনেকের মনেই প্রশ্ন থাকে, বেসরকারি কলেজে ভর্তি হতে কি আলাদা কোনো পরীক্ষা দিতে হয়? উত্তর হলো, না। বেসরকারি নার্সিং ভর্তি যোগ্যতা পূরণের প্রধান শর্তই হলো সরকারিভাবে আয়োজিত কেন্দ্রীয় নার্সিং ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করা এবং ন্যূনতম পাস নম্বর অর্জন করা।

​ভর্তি পরীক্ষায় ১০০ নম্বরের মধ্যে যদি কোনো শিক্ষার্থী ন্যূনতম ৪০ নম্বর পেয়ে উত্তীর্ণ হন, তবেই তিনি যেকোনো বেসরকারি নার্সিং কলেজে ভর্তির আবেদন করতে পারবেন। ৪০ নম্বরের কম পেলে কোনোভাবেই বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে ভর্তির সুযোগ নেই। এছাড়া, শিক্ষাগত যোগ্যতার ক্ষেত্রে বিএসসি বা ডিপ্লোমার জন্য নির্ধারিত মূল জিপিএ (বিএসসির জন্য ৭.০০ এবং ডিপ্লোমার জন্য ৬.০০) শর্তগুলো বেসরকারি কলেজের ক্ষেত্রেও সমভাবে প্রযোজ্য। বেসরকারি কলেজে ভর্তির ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের আর্থিকভাবে কিছুটা বেশি প্রস্তুতি রাখতে হয়, তবে কোর্স শেষে সরকারি বা বেসরকারি হাসপাতালে চাকরির সুযোগ সরকারি কলেজ থেকে পাস করা শিক্ষার্থীদের মতোই উন্মুক্ত থাকে।


নার্সিং ভর্তি আবেদন যোগ্যতা এবং অনলাইনে ফর্ম পূরণের নিয়ম

যোগ্যতা যাচাইয়ের পর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হলো নির্ভুলভাবে ভর্তির আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা। বর্তমানে সম্পূর্ণ আবেদন প্রক্রিয়াটি অনলাইনের মাধ্যমে টেলিটক (Teletalk) প্রিপেইড সিম ব্যবহার করে সম্পন্ন করতে হয়। নার্সিং ভর্তি আবেদন যোগ্যতা পূরণকারী শিক্ষার্থীরা নির্দিষ্ট ওয়েবসাইটের (bnmc.teletalk.com.bd) মাধ্যমে আবেদন ফরম পূরণ করতে পারবেন।

​আবেদন করার সময় বেশ কিছু তথ্য ও ডকুমেন্টস হাতের কাছে রাখা বাধ্যতামূলক:

  • ছবি ও স্বাক্ষর: আবেদনকারীর সদ্য তোলা ৩০০x৩০০ পিক্সেলের রঙিন ছবি (সর্বোচ্চ ১০০ কেবি) এবং ৩০০x৮০ পিক্সেলের স্বাক্ষরের (সর্বোচ্চ ৬০ কেবি) স্ক্যান কপি প্রয়োজন।
  • একাডেমিক তথ্য: এসএসসি এবং এইচএসসি পরীক্ষার রোল নম্বর, রেজিস্ট্রেশন নম্বর, বোর্ড এবং পাসের সাল সঠিকভাবে পূরণ করতে হয়।
  • কোটা সুবিধা: যদি কোনো আবেদনকারী মুক্তিযোদ্ধা কোটা, উপজাতি কোটা বা অন্য কোনো কোটায় আবেদন করতে চান, তবে আবেদন ফর্মে তা নির্দিষ্ট করতে হবে এবং ভর্তির সময় এর সপক্ষে যথাযথ মূল সনদপত্র প্রদর্শন করতে হবে।
  • কলেজ চয়েস: আবেদন ফর্মে নিজের পছন্দ অনুযায়ী সরকারি নার্সিং কলেজগুলোর তালিকা (College Choice List) ক্রমানুসারে সাজাতে হয়। মেধা ও পছন্দের ক্রমানুসারে পরবর্তীতে কলেজ বরাদ্দ দেওয়া হয়।

​অনলাইনে ফর্ম সাবমিট করার পর একটি ইউজার আইডি (User ID) পাওয়া যায়। এরপর ৭২ ঘণ্টার মধ্যে টেলিটক সিমের মাধ্যমে নির্দিষ্ট পরিমাণ ফি (বিএসসির জন্য সাধারণত ৭০০ টাকা এবং ডিপ্লোমার জন্য ৫০০ টাকা) এসএমএসের মাধ্যমে জমা দিলে তবেই আবেদন প্রক্রিয়াটি চূড়ান্তভাবে সম্পন্ন হয়। আবেদন ফি জমা না দিলে ফর্ম বাতিল বলে গণ্য হয়।


নার্সিং ভর্তি পরীক্ষায় মানবণ্টন ও সিলেবাস

শুধুমাত্র যোগ্যতা থাকলেই হবে না, ভর্তি পরীক্ষায় ভালো করার জন্য এর মানবণ্টন ও সিলেবাস সম্পর্কে সঠিক ধারণা থাকতে হবে। নার্সিং ভর্তি পরীক্ষা সাধারণত ১০০ নম্বরের এমসিকিউ (MCQ) পদ্ধতিতে অনুষ্ঠিত হয় এবং পরীক্ষার সময় থাকে ১ ঘণ্টা। এই পরীক্ষায় কোনো নেগেটিভ মার্কিং (Negative Marking) থাকে না, যা পরীক্ষার্থীদের জন্য একটি বড় সুবিধা।

​বিএসসি ইন নার্সিং এবং ডিপ্লোমা কোর্সের জন্য পরীক্ষার বিষয়বস্তুতে কিছুটা পার্থক্য থাকে।

  • বিএসসি ইন নার্সিং: বাংলা (২০), ইংরেজি (২০), সাধারণ গণিত (১০), সাধারণ বিজ্ঞান অর্থাৎ পদার্থ, রসায়ন ও জীববিজ্ঞান (৩০) এবং সাধারণ জ্ঞান (২০)। এখানে বিজ্ঞান বিষয়ের প্রশ্নগুলো এইচএসসি বিজ্ঞান বিভাগের সিলেবাসের আলোকে হয়ে থাকে।
  • ডিপ্লোমা ইন নার্সিং ও মিডওয়াইফারি: বাংলা (২০), ইংরেজি (২০), সাধারণ গণিত (১০), সাধারণ বিজ্ঞান (২৫) এবং সাধারণ জ্ঞান (২৫)। ডিপ্লোমার ক্ষেত্রে সাধারণ বিজ্ঞানের প্রশ্নগুলো সাধারণত নবম-দশম শ্রেণির সাধারণ বিজ্ঞান বইয়ের আলোকে করা হয়, যেহেতু এখানে সব বিভাগের শিক্ষার্থীরা অংশ নেয়।

নার্সিং কোর্সে ছেলেদের সুযোগ ও সংরক্ষিত আসন

অনেকের মনেই একটি ভুল ধারণা রয়েছে যে, নার্সিং পেশাটি হয়তো কেবল মেয়েদের জন্য। কিন্তু আধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থায় দক্ষ পুরুষ নার্স বা ব্রাদারদের চাহিদাও প্রচুর। মিডওয়াইফারি কোর্সটি ছাড়া বিএসসি এবং ডিপ্লোমা—উভয় কোর্সেই পুরুষ শিক্ষার্থীরা আবেদন করতে পারেন। তবে আসন সংখ্যার ক্ষেত্রে একটি নির্দিষ্ট নীতিমালা বা কোটা ব্যবস্থা অনুসরণ করা হয়।

​বাংলাদেশ নার্সিং ও মিডওয়াইফারি কাউন্সিলের নিয়ম অনুযায়ী, সরকারি নার্সিং কলেজগুলোতে মোট আসন সংখ্যার ১০ শতাংশ (১০%) ছেলেদের জন্য সংরক্ষিত থাকে। অন্যদিকে, বেসরকারি নার্সিং কলেজ ও ইনস্টিটিউটগুলোতে ছেলেদের জন্য আসন সংরক্ষণের হার হলো ২০ শতাংশ (২০%)। ছেলেদের জন্য আসন সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম হওয়ায় ভর্তি পরীক্ষায় তাদের মধ্যে প্রতিযোগিতা বেশ তীব্র হয়। তাই যে সকল পুরুষ শিক্ষার্থী এই পেশায় আসতে চান, তাদের ভর্তি পরীক্ষায় মেয়েদের চেয়েও তুলনামূলক বেশি নম্বর তোলার প্রস্তুতি নিতে হবে।

নার্সিং পড়াশোনা শেষে বেকার বসে থাকার হার বাংলাদেশে একেবারেই নগণ্য। কোর্স সম্পন্ন করার পর বাংলাদেশ নার্সিং কাউন্সিল থেকে লাইসেন্সিং পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে রেজিস্ট্রেশন সনদ গ্রহণ করতে হয়। এই সনদ পাওয়ার পর একজন নার্স হিসেবে সরকারি এবং বেসরকারি উভয় খাতেই চাকরির বিশাল দ্বার উন্মুক্ত হয়ে যায়।

​সরকারি পর্যায়ে 'সিনিয়র স্টাফ নার্স' হিসেবে দ্বিতীয় শ্রেণীর গেজেটেড কর্মকর্তা পদে নিয়োগের সুযোগ রয়েছে, যা একজন শিক্ষার্থীর জন্য অত্যন্ত সম্মানজনক। এছাড়া দেশে ব্যাঙের ছাতার মতো গড়ে ওঠা উন্নতমানের বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলোতে দক্ষ নার্সদের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। শুধু দেশেই নয়, মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ এবং উত্তর আমেরিকার দেশগুলোতেও বাংলাদেশের নার্সদের জন্য লোভনীয় বেতনে চাকরির সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। ভাষা দক্ষতা (যেমন- আইইএলটিএস বা ওআইটি) অর্জন করতে পারলে বিদেশে একজন নিবন্ধিত নার্স হিসেবে ক্যারিয়ার গড়া খুব সহজেই সম্ভব।



 


Asaduzzaman Asad

আসাদুজ্জামান আসাদ

আমি সহ আমার টিম প্রতিনিয়ত কাজ করি অনলাইন জগতে বিভিন্ন তথ্য প্রদানের মাধ্যমে সবার জ্ঞান ও দক্ষতা বৃদ্ধিতে। আমাদের সম্পর্কে আপনার কোন প্রশ্ন বা মতামত প্রদান করতে আমাদের যোগাযোগ পেইজ ব্যবহার করুন অথবা নিচে কমেন্ট করুন।

Post a Comment

Previous Post Next Post